পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী মর্তুজা হোসাইন-এর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তাকে মারধর করে গুরুতর জখম করা হয় এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ কার্যালয় থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে মঠবাড়িয়া পৌরসভার মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বেল্লাল ও হিরুর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল তাকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে হকিস্টিক ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মর্তুজা হোসাইন সাংবাদিকতার পাশাপাশি সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মঠবাড়িয়া শাখার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
ঘটনার পেছনে পূর্ব বিরোধের জের থাকতে পারে বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির চেষ্টা নিয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে হামলাকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আহত মর্তুজা হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, আমার হোটেলে মব সৃষ্টি করে চাঁদাবাজির ঘটনায় মামলা করার পর থেকেই তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে আমার ওপর হামলা চালানো হয়।
এদিকে তার স্ত্রী শামসুন্নাহার অভিযোগ করেন, হামলার পর থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। বরং প্রতিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, আহত ব্যক্তি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার চিকিৎসা শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খুলনা গেজেট/এমএম

